সহিংস পরিস্থিতি বিদেশী বিনিয়োগকারীরা পছন্দ করেন না

সহিংস পরিস্থিতি ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা পছন্দ করেন না।

সহিংস পরিস্থিতি ও সরকারি বিভিন্ন সংস্থার নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা পছন্দ করেন না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তারা বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হন। ফলে বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে স্থিতিশীল এবং যতটা সম্ভব কম নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ব্র্যাক–ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেড আয়োজিত ‘‌ফরেন ইনভেস্টরস সামিট ২০২৫’-এ বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এসব কথা বলেছেন।

কনটেক্সচুয়াল ইনভেস্টমেন্ট এলএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকাও হিরোশি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘বিনিয়োগকারীরা সহিংসতা পছন্দ করেন না। এ ধরনের পরিস্থিতি থাকলে তারা বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিজ দেশে ফেরত নিয়ে যাবেন।’

এশিয়া ফ্রন্টিয়ার ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ফান্ড ম্যানেজার রুচির দেশাই তার বক্তব্যে বলেন, ‘সুদহারের সীমা বেঁধে দেয়া, কভিডের সময় পুঁজিবাজার বন্ধ থাকা, শেয়ারদরে ফ্লোর প্রাইস আরোপ, টেলিকম খাতে নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপের মতো বিষয়গুলো বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে।’

সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘যেকোনো বিপ্লবের পর বিশ্বের অনেক দেশে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হ্রাস পায় এবং মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে দেখা গেছে। এটাই বিশ্বজুড়ে সাধারণ প্রবণতা। কিন্তু বাংলাদেশ এক অনন্য দৃষ্টান্ত, যেখানে ঋণাত্মক জিডিপি প্রবৃদ্ধি দেখা যায়নি এবং তীব্র মূল্যস্ফীতিও হয়নি। বরং মূল্যস্ফীতির বড় মাত্রায় কমেছে। এটি দেশের অর্থনীতির অসাধারণ সহনশীলতার প্রমাণ বহন করে। বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে, আমাদের পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনশীল বিনিয়োগকে সমর্থন ও গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে এবং এটি কোনো ফাঁকা দাবি নয়, বরং একটি বাস্তবতা।’

প্যানেল আলোচনায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। টাকা ছাপানো ও ঋণ নেয়ার পরিবর্তে অর্থনীতিকে বিনিয়োগের পথে এগিয়ে নিতে হবে। বিনিয়োগই একমাত্র সমাধান। বিনিয়োগ ছাড়া অর্থনীতি টেকসই করা সম্ভব নয়। দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগ এবং পুঁজিবাজার উচ্চপর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারের বিকল্প নেই। ঋণ নয়, বরং পুঁজিবাজারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে বাংলাদেশ বিমানের মতো সরকারি সংস্থার জন্য উড়োজাহাজ কেনা সম্ভব। মিউনিসিপ্যালিটি বন্ড ইস্যুর মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। সামাজিক খাত, অবকাঠামো বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক কাঠামোর পরিবর্তন ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক কাঠামো পরিচালনা সম্ভব নয়। এতদিন সবাই নির্বাচনের অপেক্ষায় ছিলেন। যেহেতু নির্বাচনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে, সেহেতু দেশের উদ্যোক্তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশের বাইরের উদ্যোক্তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর ফল আজ আমরা এখানে দেখতে পাচ্ছি—জাপান থেকে বড় প্রতিনিধি দল এসেছে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার উদ্দেশ্যে।’

সম্মেলনে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ ‘‌বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রেক্ষাপট: প্রবৃদ্ধির চালক ও সম্ভাবনাসমূহ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভাপতিত্ব করেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম। এছাড়া সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে ব্র্যাক ইপিএলের সিইও আহসানুর রহমান, বিএসইসি কমিশনার মু. মোহসিন চৌধুরী, ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহরিয়ার এম হাসান, ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও সিএসই চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

আরও